India's No. 1 Bengali Technology blog

ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট কোর্স (দ্বিতীয় পর্ব)

Writen by : R Baidya

Writen by : R Baidya | Date : 2 Oct 2019 | Bookmark : Add

web-design-development-course-second-lesson

ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট কোর্সের (Web Design And Development Course) দ্বিতীয় পর্বে আজ হোস্টিং (Hosting) বা সার্ভার (Server) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। 

ওয়েব হোস্টিং (Hosting) বা সার্ভার (Server) :

ওয়েব হোস্টিং(Hosting) বা সার্ভার (Server) বলতে ওয়েব সাইটের সমস্ত ডাটা (যেমন - কোডিং, ছবি, গ্রাফিক্স, ভিডিও ইত্যাদি) যে স্টোরেজ বা ডিস্কে রাখা হয়। চাইলে আপনার কম্পিউটারকে আপনার ওয়েব সাইটের সার্ভার (Server) হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন, সেক্ষেত্রে বিশেষ পরিকাঠামোর প্রয়োজন। তাছাড়া কম্পিউটারকে 24 ঘন্টা চালু রাখতে হবে, তা অনেক ব্যয়বহুল ও সমস্যার। 

সেক্ষেত্রে আপনাকে মাসিক কিছু পরিমান টাকার বিনিময়ে হোস্টিং (Hosting) বা সার্ভার (Server) কিনতে হবে। GoDaddy, Bluehost ইত্যাদি কম্পানির থেকে আপনি আপনার ওয়েব সাইটের হোস্টিং (Hosting) কিনতে পারেন। তবে হোস্টিং (Hosting) নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই নিচের বিষয় গুলির উপর লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

  • ডিস্ক স্পেস (Disk Space) : ডিস্ক স্পেস বলতে মুলত আপনার ওয়েব সাইট সার্ভারে রাখার জন্য যতটা জায়গার প্রয়োজন। এটি মুলত আপনার ওয়েব সাইডের কোডিং ফাইল, গ্রাফিক্স, ছবি প্রভৃতির মোট সাইজের উপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত। ধরুন আপনার ওয়েব সাইডের মোট সাইজ (কোডিং ফাইল, গ্রাফিক্স, ছবি প্রভৃতি) 50MB তাহলে আপনাকে এর থেকে বেশি স্পেসের ওয়েব হোস্টিং নেওয়া দরকার। 
  • ডিস্ক টাইপ (Disk Type) : বর্তমানে 2 (দুই) ধরনের ডিস্ক বা হার্ডডিস্ক ওয়েব হোস্টিং (Hosting)-এ ব্যাবহার হয়ে থাকে।
    1. হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ (HDD - Hard Disk Drive) : এই টাইপে হোস্টিং-এ সাধারণ হার্ড ডিস্ক ব্যবহার করা হয়ে থাকে তার ফলে এই হোস্টিং (Hosting)-এর স্পিড ও দাম কম।
    2. সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD - Solid State Drive) : এই ধরনের হোস্টিং-এ  SSD করা হয়। ফলে এর দাম ও স্পীড অনেক বেশী হয়ে থাকে।
  • ব্যান্ডউইথ (Bandwidth) : ব্যান্ডউইথ হল ওয়েব সাইটে ব্রাউজ করার জন্য কোন ইউজারের (ইউজার বলতে যে ব্যাক্তি ওয়েব সাইট ভিসিট করে) PC / Laptop / Mobile / Tablet-এ মাসে যতটুকু ডেটা ট্রান্সফার হয়। সে জন্য ওয়েব হোস্টিং (Hosting) কেনার সময় অবশ্যই ব্যান্ডউইথের পরিমাণ দেখে নেওয়া উচিৎ। এমন অনেক ওয়েব সাইট আছে যেগুলিতে অনেক ইউজার ভিসিট করার ফলে সার্ভার ক্রাস হয়ে পড়ে ব্যান্ডউইথ কম থাকার জন্য। সেজন্য ব্যান্ডউইথ খুবই গুরুত্বপুর্ন, ব্যান্ডউইথ বেশি আছে এমন ওয়েব হোস্টিং (Hosting) নেওয়া উচিৎ। এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে কোন ওয়েব সাইটের ব্যান্ডউইথ (Bandwidth) কিভাবে নির্ধারন করবেন। সেক্ষেত্রে সেই ওয়েব সাইটের মোট ফাইলের গড় ও মাসিক আনুমানিক পেজ ভিজিটের সংখ্যা গুন করলে ব্যান্ডউইথ (Bandwidth)-এর পরিমাণ জানতে পারবেন। উদাহরণ হিসাবে - 
যদি ওয়েব সাইটের পেজের গড় সাইজ 0.50 ও মাসিক 10,000 পেজ ভিজিট হয় তাহলে
0.50x10000 = 4.8GB ব্যান্ডউইথ (Bandwidth) প্রয়োজন।
  • আপটাইম (Uptime) : আগেই একবার উল্ল্যেখ করেছি যে চাইলে আপনি আপনার ওয়েব সাইটের হোস্টিং(Hosting) বা সার্ভার (Server) হিসাবে আপনার কম্পিউটারকে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটারকে 24 ঘণ্টা চালু রাখার কথা বলেছিলাম। কারন কম্পিউটার বন্ধ রাখলে আপনার ওয়েব সাইট কেউ এক্সেস করতে পাবে না অর্থাৎ ওয়েব সাইট বন্ধ থাকবে। তেমনি সার্ভারের ক্ষেত্রে এই একটি নিয়ম প্রযোজ্য। বেশির ভাগ হোস্টিং (Hosting) প্রভাইডার কম্পানি 99.99% আপটাইম দেবার প্রতশ্রুতি দেয় কিন্তু তা বাস্তবে দেয় না। সেজন্য হোস্টিং(Hosting) নেওয়ার সময় এই বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন এবং বিশ্বস্ত হোস্টিং (Hosting) প্রভাইডার কম্পানির থেকে হোস্টিং নেওয়া উচিৎ।
  • কানেকশন স্পিড (Connection Speed) : কানেকশন স্পিড বলতে কোন ওয়েব সাইটের হোস্টিং(Hosting) বা সার্ভার (Server) প্রতি সেকেন্ডে কতটুকু ডেটা ট্রান্সফার করতে পারে। সেজন্য ওয়েব সাইটের টাইপের উপর নির্ভর করে হোস্টিং(Hosting) বা সার্ভার (Server) নেওয়ার প্রয়োজন। 

কোন ওয়েব সাইটের ধরন অনুযায়ী হোস্টিং (Hosting) ব্যবহার করা উচিৎ। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো প্রকারভেদের দিক দিয়ে হোস্টিং(Hosting) 3 ভাগে ভাগ করা যায়। 

  • শেয়ার্ড হোস্টিং (Shared Hosting) : এই হোস্টিং খুবই জনপ্রিয় ওয়েব হোস্টিং (Hosting), বেশিরভাগ হোস্টিং প্রভাইডার কম্পানি গুলি এই ধরনের ওয়েব হোস্টিং দিয়ে থাকে। ছোট ও মাঝারি ওয়েব সাইটের ক্ষেত্রে এই হোস্টিং ব্যবহার করা হয়। এই হোস্টিং গুলিতে একই সার্ভারের ডিস্কে একাধিক ওয়েব সাইটের ডেটা (কোডিং, গ্রাফিক্স, ছবি, ভিডিও প্রভৃতি) রাখা হয়। সাধারণত এই হোস্টিং গুলির সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা কম এবং দামও অনেক কম।
  • ডেডিকেটেড হোস্টিং (Dedicated Hosting) : এই ধরনের হোস্টিং ব্যবহার করা হয় বড় বড় ওয়েব সাইটের ক্ষেত্রে। ডেডিকেটেড হোস্টিং (Dedicated Hosting) নিরাপত্তা খুবই বেশী হয়ে থাকে এবং হার্ডওয়ার কনফিগারেশন প্রয়োজন অনুযায়ী নিতে পারেন। সাধারনত এই ধরনের ওয়েব (Hosting) অনেক ব্যয় সাপেক্ষ। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো যে ডেডিকেটেড হোস্টিং (Dedicated Hosting)-এ প্রত্যেক ওয়েব সাইটের জন্য স্বাধীন হার্ডওয়ার কনফিগারেশন থাকে।
  • ভিপিএস (VPS - Virtual Private Server) : শেয়ার্ড হোস্টিং ও ডেডিকেটেড হোস্টিং-এর মাঝামাঝি পর্যায়ে হোস্টিং এটি। অর্থাৎ ওই দুই ধরনের হোস্টিং(Hosting)-এর কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য এই হোস্টিং(Hosting)-এ দেখা যায়। ডেডিকেটেড হোস্টিং-এ যেমন এক একটি ওয়েব সাইটের জন্য যে স্বাধীন হার্ডওয়ার কনফিগারেশন দেওয়া হয়, এক্ষেত্রে সেই হার্ডওয়ার কনফিগারেশন একাধিক ওয়েব সাইটের ডেটা রাখা হয়। সেক্ষেত্রে ব্যায় অনেক কমে যায় কিন্তু নিরাপত্তার পরিমাণ ঠিক থাকে।

উপরে উল্ল্যেখিত তিন প্রকার হোস্টিং ছাড়াও অনেক হোস্টিং প্রভাইডার কম্পানি বিনামূল্যে হোস্টিং প্রদান করে থাকে। 

 

হোস্টিং প্রযুক্তি : ওয়েব সাইট বিভিন্ন প্রাকার স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ (Scripting Language) ব্যবহার করা হয়। সেই জন্য ওয়েব সাইটে ব্যবহৃত Scripting Language-এর উপর নির্ভর করে হোস্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়। উদাহরণ সরূপ ASP.Net দিয়ে ওয়েব সাইট প্রোগ্রামিং করলে Windows-এর হোস্টিং প্রয়োজন। সাধারণত দুই ধরনের হোস্টিং প্রযুক্তি হয়ে থাকে।

  • উইন্ডোস হোস্টিং (Windows Hosting) : যদি ওয়েব সাইট ASP.Net ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে প্রোগ্রামিং করা হয় সেক্ষেত্রে মাইক্রোসফট (Microsoft)-এর উইন্ডোস হোস্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। 
  • লিনাক্স হোস্টিং (Linux Hosting) : PHP ও Mysql, Python ইত্যাদি Open-source ব্যবহার করে ওয়েব সাইট প্রোগ্রামিং করলে এই প্রযুক্তির হোস্টিং ব্যবহার করা হয়।

পরবর্তী পর্যায়ে ডোমেইন, হোস্টিং ক্রয় ও ওয়েব সাইট লাইভ সার্ভারে আপলোড করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।

 

** পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যারা শিখতে ইচ্ছুক এবং কমেন্ট করে  আপনার মতামত জানান ।  

 

 

Online Courses | 729 | 0

Related Post

Author Details

R Baidya

R Baidya

I am a full stack web developer.

Comments

No review

Write comment

donate